শ্রীকান্ত
Completed Adventure
11.4K reads
1.7K votes
56 parts
0
এক চিরন্তন গৃহহীন পরিব্রাজকের আত্মজৈবনিক স্মৃতিকথা। সমাজের কোনো কৃত্রিম শৃঙ্খল বা পারিবারিক বন্ধন যাকে কোনোদিন বেঁধে রাখতে পারেনি, সেই ভবঘুরে শ্রীকান্তের চোখে ধরা পড়েছে জীবনের নানা বিচিত্র ও বর্ণময় অভিজ্ঞতা। রাতের আঁধারে শ্মশানযাত্রার সঙ্গী দুঃসাহসী ইন্দ্রনাথের অকৃত্রিম বন্ধুত্ব, ত্যাগী অন্নদাদিদির নীরব আত্মবলিদান এবং সর্বোপরি বাঈজী রাজলক্ষ্মীর সঙ্গে তার অসম ও জটিল প্রেমের স্মৃতি শ্রীকান্তকে তাড়িয়ে বেড়ায় আজীবন। ভালোবাসার তীব্র টান থাকা সত্ত্বেও সামাজিক ব্যবধান আর সংস্কারের বেড়াজাল তাদের মিলনের পথে চিরকাল অন্তরায় হয়ে থাকে। গভীর জীবনদর্শন, মানবিক মমত্ববোধ এবং সমাজের প্রান্তিক মানুষের সুখ-দুঃখের অসাধারণ চিত্রে সমৃদ্ধ বাংলা সাহিত্যের এক অমূল্য রত্ন।
More options
Table of Contents
1
এক
2
দুই
3
তিন
4
চার
5
পাঁচ
6
ছয়
7
সাত
8
আট
9
নয়
10
দশ
11
এগার
12
বার
13
এক
14
দুই
15
তিন
16
চার
17
পাঁচ
18
ছয়
19
সাত
20
আট
21
নয়
22
দশ
23
এগার
24
বার
25
তের
26
চৌদ্দ
27
পনর
28
একদিন যে ভ্রমণকাহিনীর মাঝখানে অকস্মাৎ যবনিকা টানিয়া দিয়া বিদায় লইয়াছিলাম, আবার একদিন তাহাকেই নিজের হাতে উদ্ঘাটিত করিবার আর আমার প্রবৃত্তি ছিল না। আমার সেই পল্লীগ্রামের যিনি ঠাকুরদাদা তিনি যখন আমার সেই নাটকীয় উক্তির প্রত্যুত্তরে শুধু একটু মুচকিয়া হাসিলেন এবং রাজলক্ষ্মীর ভূমিষ্ঠ প্রণামের প্রত্যুত্তরে শুধু যেভাবে শশব্যস্তে দুই পা হটিয়া গিয়া বলিলেন, তাই নাকি? আহা, বেশ বেশ—বেঁচেবর্তে থাকো! বলিয়া সকৌতুকে ডাক্তারটিকে সঙ্গে করিয়া বাহির হইয়া গেলেন, তখন রাজলক্ষ্মীর মুখের যে ছবি দেখিয়াছিলাম সে ভুলিবার বস্তু নয়, ভুলিও নাই; কিন্তু ভাবিয়াছিলাম সে আমারই একান্ত আমার—বহির্জগতে তাহার যেন কোন প্রকাশ কোনদিনই না থাকে—কিন্তু এখন ভাবিতেছি, এ ভালই হইল যে, সেই বহুদিবসের বন্ধ দুয়ার আবার আমাকে আসিয়াই খুলিতে হইল। যে অজানা রহস্যের উদ্দেশে বাহিরের ক্রুদ্ধ সংশয় অবিচারের রূপ ধরিয়া নিরন্তর ধাক্কা দিতেছে—এ ভালই হইল যে, সেই অবরূদ্ধ দ্বার নিজের হাতেই অর্গলমুক্ত [unbolted] করিবার অবকাশ পাইলাম। ঠাকুরদাদা চলিয়া গেলেন। রাজলক্ষ্মী ক্ষণকাল স্তব্ধভাবে তাঁহার দিকে চাহিয়া রহিল, তারপর মুখ তুলিয়া একটুখানি নিষ্ফল হাসির চেষ্টা করিয়া বলিল, পায়ের ধূলা নিতে গিয়ে আমি তাঁকে ছুঁয়ে ফেলতুম না; কিন্তু কেন তুমি ও কথা বলতে গেলে? তার ত কোন দরকার ছিল না! এ শুধু— বাস্তবিক এ শুধুই কেবল আপনাদের আপনি অপমান করিলাম। ইহার কোন প্রয়োজন ছিল না। বাজারের বাইজী অপেক্ষা বিধবা-বিবাহের পত্নী যে ইঁহাদের কাছে কত উচ্চ আসন পায় না—সুতরাং নীচেই নামিলাম, কাহাকেও এতটুকু তুলিতে পারিলাম না, এই কথাটাই বলিতে গিয়া রাজলক্ষ্মী আর শেষ করিতে পারিল না। সমস্তই বুঝিলাম। আর এই অবমানিতার সম্মুখে বড় কথার আস্ফালন করিয়া কথা বাড়াইতে প্রবৃত্তি হইল না। যেমন নিঃশব্দে পড়িয়াছিলাম, তেমনি নীরবেই পড়িয়া রহিলাম। রাজলক্ষ্মী অনেকক্ষণ পর্যন্ত আর একটা কথাও কহিল না, ঠিক যেন আপনার ভাবনার মধ্যে মগ্ন হইয়া বসিয়া রহিল; তার পরে সহসা অত্যন্ত কাছে কোথাও ডাক শুনিয়া যেন চমক ভাঙ্গিয়া উঠিয়া দাঁড়াইল। রতনকে ডাকিয়া কহিল, গাড়িটা শীগ্গির ঠিক করতে বলে দে রতন, নইলে সেই রাত্রি এগারটার ট্রেনে আবার যেতে হবে। কিন্তু সে হলে কিছুতেই চলবে না—ভারি হিম লাগবে। মিনিট-দশেকের মধ্যেই রতন আমার ব্যাগটা লইয়া গাড়ির মাথার তুলিয়া দিল এবং আমার শোবার বিছানাটা বাঁধিয়া লইবার ইঙ্গিত জানাইয়া নিকটে আসিয়া দাঁড়াইল। তখন হইতে আর আমি একটা কথাও কহি নাই, এখনও কোন প্রশ্ন করিলাম না। কোথা যাইতে হইবে, কি করিতে হইবে, কিছুই জিজ্ঞাসা না করিয়া নিঃশব্দে উঠিয়া ধীরে ধীরে গাড়িতে গিয়া বসিলাম।
29
দুই
30
তিন
31
চার
32
পাঁচ
33
ছয়
34
সাত
35
আট
36
নয়
37
দশ
38
এগার
39
বার
40
তের
41
চৌদ্দ
42
পনর
43
এক
44
দুই
45
তিন
46
চার
47
পাঁচ
48
ছয়
49
সাত
50
আট
51
নয়
52
দশ
53
এগার
54
বার
55
তের
56
চৌদ্দ